শিরোনাম
আমাদের বাংলা ডেস্ক : | ০৬:০৫ পিএম, ২০২৪-০৮-০৬
মিলন উদ্দিন লস্কর
মাত্র একটি মন্তব্য করেই নিজের পতন ডেকে এনে দেশান্তরী হতে বাধ্য হলেন বাংলাদেশের পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঞ্চমবার ক্ষমতাসীন হবার পর থেকেই আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা কারণে দেশব্যাপী ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল।নিজের ক্যারিসমা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা দিয়ে তা ম্যানেজ করলেও শেষ পর্যন্ত সম্মিলিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাছে মাথা নথ করতে হল তাকে। শুধু মাথা নত নয় স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে হয় শেখ হাসিনাকে ।গত জুন মাস থেকে বাংলাদেশে কোটা সংরক্ষণ বিরোধিতার দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্ররা।জুলাই মাসে আন্দোলন যখন তুঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করে পাল্টা ছাত্রদের 'রাজাকার' মন্তব্য করে তাতিয়ে দেন। রাজাকার মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই ধিকিধিকি আগুনের ক্ষোভ জ্বলছিল বাংলাদেশে। ক্ষোভের আগুন যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন হাসিনা।কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সম্মিলিত ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে গণ আন্দোলনের রূপ নেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অসহায় অবস্থায় বাংলাদেশ ছাড়তে হল মুজিব তনয়া তথা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মহিলা রাজনীতিক শেখ হাসিনাকে। সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেশ যখন তুঙ্গে তখনও প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে আন্দোলনকারী ছাত্রদের 'রাজাকার' এবং 'সন্ত্রাসী' আখ্যায়িত করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেন। ইতোমধ্যে আন্দোলনে শতাধিক ছাত্রছাত্রী,পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়। গণ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে সরকারের কোটা সংরক্ষণ বাতিল করে দেয়।এর পর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সুপ্রিমের নির্দেশকে মান্যতা দিতে বাধ্য হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর ছাত্ররা শহিদ ছাত্রদের ক্ষতিপূরণের দাবি সহ নয় দফা দাবি রূপায়ণ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড় থাকে। এই সময়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে দেশ তার বাবা স্বাধীন করেছেন বলে অহং মন্তব্য করে ছাত্রনেতা ও বিরোধীদের তাতিয়ে দেন।হাসিনার মন্তব্যে ক্ষেপে গিয়ে জামাত, বিএনপি শিবির সরাসরি ছাত্র আন্দোলনে মদত দেয়। আন্দোলনকারীরা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি 'রাজধানী চলো,লংমার্চের ডাক' দেয়। তখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হাসিনা আগ্রহ প্রকাশ করলেও অনেক দেরি হয়ে যায়। যার শেষ পরিণতি সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন হাসিনা।
উল্লেখ্য,পাঁচবার বাংলাদেশের কুর্সিতে বসেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি সবথেকে দীর্ঘদিন সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী মহিলা রাস্ট্র প্রধানও তিনি।বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আরও জনপ্রিয় হন।এমন কী নোবেল শান্তি পুরষ্কারের চর্চায়ও তাঁর নাম ওঠে আসে। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। একথা তাঁর নিন্দুকেরাও স্বীকার করেন।কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর হাসিনার দম্ভ বেড়ে যায়।বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কোন পাত্তাই দেন নি। প্রতিবাদ করলে জেলে টাই হত নেতাদের।শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল তিনটি নির্বাচনে অংশই নেয়নি। সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে কোন বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় কার্যত সংসদ ছিল বিরোধী শূন্য।শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ তিনি 'স্বৈরশাসক ' হয়ে উঠেন।
১৯৯৬ সালে প্রথম বার শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মসনদে বসেন।এরপর ২০০৮ সালে তিনি গন আন্দোলনের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।এর পর থেকে কেউ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি। অতীতেও একাধিকবার টালমাটাল পরিস্থিতির সম্মুখীন হন বঙ্গবন্ধু কন্যা। ২০০৭ সালে বাংলাদেশেই শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষে হত্যা এবং তিনকোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অবশ্য ২০০৮ সালে সেই মামলা তুলে নেওয়া হয়েছিল।এরপরই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন তিনি। তার শাসনকালে ' ব্লগার স্বাধীনতার অভাব' নিয়ে বিক্ষোভের ঢেউ ওঠে দেশ জুড়ে। কিন্তু তিনি পুরো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হন। তাহলে,কোটা আন্দোলন কেন এই রূপ নিল? তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে চূলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। কোটা আন্দোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বিক্ষোভের সুর ছিল। গত ১৪ জুলাই সাংবাদিকদের সম্মুখীন হয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন,' মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি পুতিরা এই সুবিধা পাবে, না রাজাকারের নাতিপুতিরা চাকরি পাবে? তাঁর এই মন্তব্যের পরই অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পড়ুয়ারা। যদিও পরে শেখ হাসিনা বলেছিলেন,'পড়ুয়াদের রাজাকার বলিনি,মন্তব্য বিকৃত হয়েছে। ' কিন্তু তার আগেই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছিল সারা বাংলাদেশ ব্যাপী।বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। এরপরও নয়দফা দাবিতে ' বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ' চলে। দাবিগুলির মধ্যে ছিল ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি,তাদের উপর সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া,কোটা আন্দোলনকারীদের শাস্তি। আন্দোলনকারীরা শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। মাত্র চারদিন আগে আওয়ামী লিগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছিলেন,'শেখ হাসিনা কখনও পালিয়ে যায়না। ' কিন্তি চারদিন যেতে না যেতেই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে নিভৃতে দেশান্তরি হন তিনি। বিজয় এসেছে আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে উনসত্তরের গণ - অভ্যত্থানের পর এমন শিক্ষার্থী - জনগণের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে তীব্র আন্দোলন দেশে আর হয়নি।
সোমবার শেখ হাসিনা দেশ,ছাড়ার পর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙ্গা সহ গণ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আবাসে যে লুটতরাজ হয়েছে সেটা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। সেনাবাহিনী প্রধান আশ্বস্থ করেছেন শীঘ্রই বাংলাদেশে একটি অন্তরবর্তীকালিন সরকার গঠন করা হবে, যার অধীনে দেশের সব কার্যক্রম চলবে।বিশ্ববাসী এবং বাংলাদেশের সুশীল সমাজ আশা করছে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের যারা মূর্তি ভেঙ্গেছে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে লুটতরাজ এবং সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হোক।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম প্রধান দলিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাগর...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ভাত আমাদের খুব আপন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তার উপস্থিতি এত স্বাভাবিক যে, ভাত নিয়ে আলাদা করে ভা...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। ঘুম ভেঙে দরজা খুললেন মা। ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট। ঢাকার মাটিতে থেমে গেল কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পথচলা। যে কবি একদিন অন্যায়ের ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : কোনো কোনো কণ্ঠ শুধু গান গায় না, একটি সময়কে ধারণ করে। আবদুর রহমান বয়াতীর কণ্ঠ ছিল তেমনই—মাটির গন্ধ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফল প্রকাশের পর মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে কয়েকটি সংখ্যা। কারও জন্য সেই সংখ্যা আনন্দের, কারও জন্য হতা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited